অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ক্লড এআই কি সত্যিই নিজে চিন্তা করতে পারে

অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ক্লড এআই মডেল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে বিভিন্ন তথ্য নিজে নিজে বিশ্লেষণ করে থাকে।

Jul 8, 2026 - 17:58
 0  2
অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ক্লড এআই কি সত্যিই নিজে চিন্তা করতে পারে

অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ক্লড এআই মডেল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে বিভিন্ন তথ্য নিজে নিজে বিশ্লেষণ করে থাকে। তবে সেই বিশ্লেষণের সব অংশ উত্তরে প্রকাশ করে না। মডেলটির নির্দিষ্ট অংশে অপেক্ষাকৃত জটিল বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনার চিন্তামূলক ভাবনা সম্পন্ন হলেও একই সময়ে একাধিক কার্যক্রম সমান্তরালভাবে চলতে থাকে। ক্লডের নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, আধুনিক লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেলে (এলএলএম) একটি বিশেষ অভ্যন্তরীণ কর্মক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধারণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ‘জে-স্পেস’ নামে পরিচিত এই কর্মক্ষেত্র মূলত একধরনের নিউরালের কার্যক্রমের সমষ্টি। জে-স্পেস কোনো পরিকল্পিত নকশার অংশ নয়। ক্লডকে এমনভাবে কাজ করার জন্য আলাদাভাবে প্রোগ্রামও করা হয়নি। মডেলটির প্রশিক্ষণপ্রক্রিয়ার সময়ই এই অভ্যন্তরীণ কাঠামো স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছে।

জে-স্পেস নামটি এসেছে গণিতের জ্যাকোবিয়ান ধারণা থেকে। এটি মূলত ভাষা মডেলের ভেতরে থাকা কিছু নির্দিষ্ট নিউরাল কার্যকলাপের সমষ্টি। প্রতিটি কার্যকলাপ একটি নির্দিষ্ট শব্দ বা ধারণার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো একটি কার্যকলাপ সক্রিয় হলে বোঝা যায়, সেই মুহূর্তে মডেলটি ওই শব্দ বা ধারণা নিয়ে ভাবছে। তবে জে-স্পেসকে মডেলের চেইন অব থট বা ধাপে ধাপে যুক্তি উপস্থাপনের পদ্ধতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। কারণ, এটি সম্পূর্ণ নীরবে মডেলের অভ্যন্তরীণ নিউরাল কার্যকলাপের মাধ্যমে কাজ করে। ফলে কোনো ধারণা নিয়ে বিশ্লেষণ করলেও সেটি ভাষায় প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। অ্যানথ্রোপিকের দাবি, ব্যবহারকারী জানতে চাইলে ক্লড জে-স্পেস কী নিয়ে ভাবছে, সে বিষয়ে জানাতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে এই নিউরাল কার্যকলাপের ধরনও পরিবর্তন করা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, জে-স্পেস ব্যবহার করতে না দিলে ক্লড স্বাভাবিকভাবে কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে। তবে জটিল বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা ও উচ্চতর যুক্তিনির্ভর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যদিও সাবলীলভাবে কথা বলা, সাধারণ তথ্য মনে রাখা বা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক বাক্য গঠনের মতো মৌলিক কাজের জন্য মডেলটি সব সময় জে-স্পেসের ওপর নির্ভর করে না।

গবেষকদের মতে, স্নায়ুবিজ্ঞানের বহুল আলোচিত গ্লোবাল ওয়ার্কস্পেস তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্কে একাধিক বিশেষায়িত ব্যবস্থা একই সময়ে সমান্তরালভাবে কাজ করে। প্রয়োজনের সময় এসব ব্যবস্থার তথ্য একটি অভিন্ন কর্মক্ষেত্রে একত্র হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় বা কোনো বিষয় ভাষায় প্রকাশ করে। আর তাই এই গবেষণা ফলাফল লার্জ ল্যাংগুয়েজ মডেলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যাসহ প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আচরণ উন্নত করার সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow