ফুটবলের সেরা মুহূর্ত দেখে ফেলেছি সেদিনই
একটি অধরা জয় আর একজন জাদুকরের হাতে সোনালি ট্রফি—এটা কি আদৌ সম্ভব? তখন মনে মনে এটাই ভেবে যাচ্ছিলাম। হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। তখন মনে হয়েছিল, আর আজও তা–ই মনে হয়—মেসি, তুমি কাপের চেয়েও বেশি কিছু। তুমি সেরা নও, তুমি সবার সেরা। ধর্ম আলাদা হলেও প্রার্থনা একটাই ছিল—তোমার হাতে একবার ওই সোনালি ট্রফিটা দেখব। তারপর ভাঙা গলায় চিৎকার দিয়ে বলব, ‘তুমি সেরা, মেসি সেরা, মেসি সবার সেরা।’
আর্জেন্টিনার কয়টা কাপ?
অন্যান্য দলের কয়টা কাপ আছে, তা জানতাম না। কিন্তু শৈশবে একজনকে দেখে বারবার অবাক হতাম—তাঁর নাম মেসি। না, শুধু মেসি না—একজন জাদুকর মেসি। তাঁর প্লে-মেকিং অ্যাবিলিটিতে মুগ্ধ হতাম।
২০১৪ সালে বাবার সঙ্গে আর্জেন্টিনার পতাকা কিনেছিলাম। তখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। সে কী উত্তেজনা! কিন্তু নিয়তি সেদিন তাঁদের বিশ্বকাপের স্বপ্ন শূন্য হাতে শেষ করেছিল। ফাইনালের সে রাতে খেলার তখনো দুই মিনিট বাকি ছিল। বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—
‘কোনোভাবে কি জিতবে না আর্জেন্টিনা?’
বাবা বলেছিলেন, ‘না, আর সুযোগ নেই।’
বাবার চোখ তখন ছলছল করছিল। সঙ্গে আমারও। আজও সেই রাতটা মনে পড়ে। সেদিন আর ঘুম হয়নি। মনে হয়েছিল, হয়তো জাদুকরের কষ্ট আমাকেও ছুঁয়ে গিয়েছিল।
তারপর ২০১৮ ভুলে যাওয়ার মতো বিশ্বকাপ ছিল। সেটি তাই আর মনে করতেও চাই না। তারপর এল স্বপ্নের ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হয়েছি। সে এক অন্য রকম উত্তেজনা! ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখা—সবকিছুই ছিল অনন্য, অসাধারণ। গ্রুপ স্টেজ, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল—এরপর এল ১৮ ডিসেম্বর, ফাইনালের সেই রাত।
একটি অধরা জয় আর একজন জাদুকরের হাতে সোনালি ট্রফি—এটা কি আদৌ সম্ভব? তখন মনে মনে এটাই ভেবে যাচ্ছিলাম। হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। তখন মনে হয়েছিল, আর আজও তা–ই মনে হয়—মেসি, তুমি কাপের চেয়েও বেশি কিছু। তুমি সেরা নও, তুমি সবার সেরা। ধর্ম আলাদা হলেও প্রার্থনা একটাই ছিল—তোমার হাতে একবার ওই সোনালি ট্রফিটা দেখব। তারপর ভাঙা গলায় চিৎকার দিয়ে বলব, ‘তুমি সেরা, মেসি সেরা, মেসি সবার সেরা।’
১৮ ডিসেম্বর ২০২২, আমি যা পেয়েছি, তা আমার সারা জীবনের পাওয়া। জন্মের পর থেকে ফুটবল নিয়ে একটাই চাওয়া ছিল—আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়। মেসি সেই চাওয়া পূরণ করে দিয়েছে।
সে ফুটবল ইতিহাসে যা করেছে, তা আর কারও পক্ষেই করা সম্ভব নয়। এমনকি এখন খোদ মেসির পক্ষেও আর সেটা করা সম্ভব নয়। মেসি ফুটবলে সবকিছুই অর্জন করেছে। সে নিজেকে এবং আর্জেন্টিনা ফুটবলকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছে, সেখানে আর কারও পক্ষে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ফাইনালের এ দিনটিতে আমি ফুটবলের যে স্বাদ পেয়েছি, তা আর কখনোই পাব না। ফুটবলের সেরা মুহূর্ত দেখে ফেলেছি সেদিনই। সেটাই ছিল ফুটবল ঘিরে জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।
সভাপতি, গোবিপ্রবি বন্ধুসভা
What's Your Reaction?