হাম ও হামের উপসর্গে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু ঢাকা বিভাগে

এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মারা যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।

Jul 8, 2026 - 17:58
 0  1
হাম ও হামের উপসর্গে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু ঢাকা বিভাগে

হামের উপসর্গ নিয়ে আজ বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩টি শিশু মারা গেছে। এই তিনজনই ঢাকার। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যু হয়েছে ৭৪৫টি শিশুর।

এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মারা যাওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে হামের উপসর্গে ২৮৩ এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ৫৭ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০৬। আর উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৬।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে ৬৫২টি শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা যায়। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৩টি শিশু।

গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১১৬ দিনে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১ লাখ ৮ হাজার ১৮০। তাঁদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯১ হাজার ২৭০ জন। আর হাম শনাক্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭০ জনের। এ ছাড়া ১১৬ দিনে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৬২৮ জন।

আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬৪ জন। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল। ৮ জুলাই

শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৭৯৬। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৪৮টি শিশু। তাদের মধ্যে ২৬৪ জনই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (১৬২), বরিশাল (১১৫) ও সিলেট (৬৪)। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৪ জন হামে আক্রান্ত রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পেয়েছেন।

হামের মূল কারণ মিজলস নামের ভাইরাস, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সংস্পর্শে ভাইরাসটি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

হাম রোগের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৮ থেকে ১২ দিনের মধ্যে দেখা যায়। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে খুব বেশি জ্বর, শুকনা কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন বলেন, হাম থেকে সুরক্ষায় শিশুকে সময়মতো টিকা দিতে হবে। প্রথম টিকা দিতে হবে শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে। এরপর টিকার দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে ১৫ মাস বয়সে। সব সময় হাত-মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে। চোখে হাত দেওয়া যাবে না। হাঁচি-কাশিসংক্রান্ত শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত পাঁচ দিন আলাদা করে রাখতে হবে। জ্বর ও ফুসকুড়ি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow