রজতজয়ন্তীতে গোবিপ্রবি: প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও রজতজয়ন্তী উপলক্ষে গোবিপ্রবি বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। ‘রজতজয়ন্তীতে গোবিপ্রবি: প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা’ শিরোনামে ৮ জুলাই রাতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

Jul 9, 2026 - 23:06
 0  0
রজতজয়ন্তীতে গোবিপ্রবি: প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ৪৭তম বিসিএসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থীর সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়াও প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও রজতজয়ন্তী উপলক্ষে গোবিপ্রবি বন্ধুসভার ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। ‘রজতজয়ন্তীতে গোবিপ্রবি: প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা’ শিরোনামে ৮ জুলাই রাতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক অনুষদের ডিন ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুকান্ত বিশ্বাস এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ টি এম সাইফুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন গোবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আফিফা ঐশী।

বক্তারা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য দুটি—শিক্ষা প্রদান এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি বা গবেষণা। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণামুখী পরিবেশ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মান নির্ধারিত হয়, যার স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন বহির্বিশ্বেও প্রতিফলিত হয়।

আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকাও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বক্তারা বলেন, এসব সংগঠন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, যোগাযোগদক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪টি বিভাগ রয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের অর্জনের তথ্য সমন্বিতভাবে সংরক্ষণ করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা গেলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।

আলোচনা শেষে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনে গোবিপ্রবি থেকে আরও বেশি শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক বৃত্তি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ অর্জন করবেন। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও উজ্জ্বল অবস্থান তৈরি করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

রজতের আলোয় ফিরে দেখা হোক গৌরবের পথচলা, নতুন করে লেখা হোক আগামীর স্বপ্ন। প্রিয় গোবিপ্রবির সেই স্বপ্নযাত্রার বিশ্বস্ত সহযাত্রী হয়ে থাকুক গোবিপ্রবি বন্ধুসভা। ইতিহাসের প্রজ্ঞা, বর্তমানের প্রত্যয় আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ হোক প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিটি আলোচনা।

পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, গোবিপ্রবি বন্ধুসভা

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow